
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে নগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে স্থাপিত হয় শহীদ জিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও মহানগর বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম।
২০০২ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ২৬ জুলাই দলীয় প্রভাবে পুলিশ ও র্যাবের সহযোগিতায় দলীয় ক্যাডার দিয়ে কলেজের বিভিন্ন দপ্তরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর জবর দখলের মাধ্যমে অধ্যক্ষের পদ থেকে তাকে অপসারণ করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর এক মাসের আইনি লড়াইয়ে স্বপদে পুনর্বহাল হয়েছেন তিনি। ২৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে সীমাহীন কষ্ট, ত্যাগ, বিড়ম্বনা ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে তাকে। যাদের অনুপ্রেরণা, সমর্থন, সাহস ও সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ পথ চলা সে সব বিষয় নিয়ে মুখ খোলেন অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম।
খুলনা গেজেটকে তিনি বলেন, ঘটনার দিন কলেজে না এসে সরাসরি আদালতে চলে যায়। দুর্বৃত্তপনার প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানি মামলা করি। এরপর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করে সমস্ত ঘটনা জানায়। উনি আমাকে মামলা পরিচালনার সাহস জুগিয়ে বলেন, আজ হোক কাল হোক, একদিন না একদিন এর ফয়সালা পাওয়া যাবে। আমার এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে অনেক নেতা সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষক সমিতির অনেক নেতৃবৃন্দ সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষক রাজনীতির কিংবদন্তি নেতা সেলিম ভুঁইয়া সব সময় খোঁজখবর এবং সহযোগিতা করেছেন। সর্বশেষ কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল। সেগুলো নিরসনে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল উদ্যোগী হয়ে সহযোগিতা করেছেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাই সবসময় সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন, মনা ভাই নানাভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়েছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি ভাই মেয়র থাকাকালীন অনেক সহযোগিতা করেছেন। সিনিয়র, জুনিয়র যারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাব রাখেন, সবার নিরঙ্কুশ সহযোগিতা পেয়েছি।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত অধ্যক্ষের চেয়ারের দায়িত্ব পালন করেছি। ২৬ জুলাই প্রত্যুষে সুইপিং কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের কাছ থেকে কলেজের চাবি ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং সন্ত্রাসীরা নিজেরা তালা এনে কলেজের বিভিন্ন দপ্তরে মেরে দেয়। তৎকালীন শ্রম প্রতিমন্ত্রীর মদদে তার কর্তৃত্ব এবং নির্দেশনায় ছাত্র, যুব, শ্রমিক সংগঠনসহ র্যাব, পুলিশের উপস্থিতিতে তারা এই দখল কাজ সম্পন্ন করে।
খুব শীঘ্রই স্থানীয় সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট আরো অনেককে নিয়ে অভিভাবক এবং সুধী সমাবেশ করব। এখানে স্পোর্টস হবে, কালচারাল প্রোগ্রাম হবে, দেশাত্মবোধক কর্মসূচি হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সকল এসাইনমেন্ট দিয়েছেন যেমন বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান সেগুলো করবো।
প্রকাশ : এ্যাড.মোল্লা মহব্বত আলী, সম্পাদক মোল্লা আশিকুর রহমান ( জিতু )। অফিস : বায়াতুল আবেদ ভবন ১৫/৫ তলা,পল্টন,ঢাকা ১০০০
dainiksomoysangbad.com