বটিয়াঘাটা (খুলনা) প্রতিনিধি:
সম্প্রতি বটিয়াঘাটা উপজেলা শ্রমিকদলের আহবায়ক হেলাল শেখের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন শ্রমিক নেতা মোঃ ইউনুস হাওলাদার।সংবাদ সম্মেলনে হেলাল শেখের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন অভিযোগকে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল বটিয়াঘাটা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোঃ হেলাল শেখ ও অন্যন্য নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হেলাল শেখ বলেন,
রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ইউনুস হাওলাদার,মৃত্যুঞ্জয় ও প্রতিমা বালার সঙ্গে তারা বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলদের জমি বায়না করার বিষয়ে তিনি ইউনুস হাওলাদারের কাছে ৪ লাখ টাকা প্রদান করেন। এছাড়া প্রতিমা বালা গংদের কাছ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ইজারা নেওয়ার কথা বলে ইউনুস হাওলাদার তার কাছ থেকে ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলের মামাদের একটি জমি নেয়ার কথা বলে আরও ১ লাখ ২১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে দাবি করেন তিনি।
হেলাল শেখ আরও বলেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ ও দূরত্ব সৃষ্টি হয়। মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা পাওনার অভিযোগের সালিশ-মীমাংসা নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়। একই সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জায়গা ও সরকারি গাছ কাটার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইউনুস হাওলাদার ও প্রতিমা বালার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু না জানলেও তাকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন হেলাল শেখ।
তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য ও বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি বায়নাকৃত জমির দখল বুঝে না পাওয়ায় ইউনুস হাওলাদারের কাছে পূর্বে দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে তিনি বিভিন্নভাবে তালবাহানা করেন। একপর্যায়ে উল্টো তার কাছে টাকা পাওনা রয়েছে—এমন দাবি করে টাকা ফেরত না দেওয়ার চেষ্টা এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হেলাল শেখের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিষয়টি প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচনের কয়েকদিন আগেও তাকে রাজনৈতিক পদ-পদবি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকার অধিক অর্থ দাবির অভিযোগ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় বিভিন্ন নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে ইউনুস হাওলাদার তার কাছে কোনো টাকা পাবেন না বলে স্বীকার করেছিলেন বলেও দাবি করেন হেলাল শেখ।
সংবাদ সম্মেলনে হেলাল শেখ বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, লেনদেনের তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রচার করা উচিত।