খান আরিফুজ্জামান (নয়ন),
ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ
উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে খুলনার ডুমুরিয়ায় বিল নার্সারিতে উৎপাদিত প্রায় ৭০ হাজার পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রা নদীর বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রমসংলগ্ন জলাশয়ে এসব পোনা ছাড়া হয়। মৎস্য বিভাগ জানায়, অভয়াশ্রমে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলাশয়ে মাছের মজুদ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবমুক্ত করা পোনার মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা ও গ্রাস কার্প। জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় ০.১০ হেক্টর জমিতে বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়। নার্সারিতে এক কেজি রেণু মজুদের পর তিন মাস ধরে নিবিড় পরিচর্যা ও লালন-পালন করা হয়। পরিচর্যার মাধ্যমে রেণুগুলো পোনায় পরিণত হওয়ার পর সেখান থেকে প্রায় ৭০ হাজার পোনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নির্ধারিত আকারের এসব পোনা বানিয়াখালী অভয়াশ্রমসংলগ্ন ভদ্রা নদীর উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়। বিল নার্সারির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন মৎস্য চাষী উজ্জ্বল বাবু। তাঁর তত্ত্বাবধানে তিন মাস ধরে রেণুর লালন-পালন ও পোনা উৎপাদন করা হয়।
পোনা অবমুক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান, শরাফপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবু মনোরঞ্জন দাস, ক্ষেত্র সহকারী পলাশ কুমার সেন, কয়েকজন ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, ভদ্রা নদীতে মাছের মজুদ বাড়াতে শুধু পোনা অবমুক্ত নয়, অভয়াশ্রমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সুরক্ষাও জরুরি। নিয়মিত পোনা অবমুক্ত ও সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ভদ্রা নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ফিরবে বলে তারা আশা করছেন। এতে স্থানীয় মানুষের মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জেলে ও মৎস্যজীবীদের আয়-রোজগারের সুযোগও বাড়বে।
ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “বিল নার্সারিতে রেণু মজুদ করে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে পোনা উৎপাদন এবং তা অভয়াশ্রম ও উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির একটি কার্যকর উদ্যোগ। এ পোনাগুলো বড় হওয়ার পাশাপাশি অভয়াশ্রমে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিচরণে ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত পোনা অবমুক্তের পাশাপাশি অভয়াশ্রমের পরিবেশ ও প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষা করা গেলে ভদ্রা নদীতে দেশীয় মাছের মজুদ ও উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জেলে ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও আয়-রোজগারের সুযোগও বাড়বে।”
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, “ভদ্রা নদীতে মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে পোনা অবমুক্তের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। অভয়াশ্রমে মাছের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজনন নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”