মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মোংলা (বাগেরহাট):
বাগেরহাটের মোংলায় ব্যবসায়ী মোঃ সবুর তালুকদারের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ৭৮ ব্যারেল ভোজ্য তেল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। জব্দ করা তেলের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ লিটার। চোরাচালানের মাধ্যমে এসব তেল এনে অবৈধভাবে মজুদ করার অভিযোগে অভিযান চালানোর পর ব্যবসায়ী সবুর তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার দুপুরে মোংলা পৌর শহরের প্রধান বাজারে মেসার্স শোভা স্টোরের গোডাউনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত সয়াবিন তেল পাওয়ার পর তা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে গোডাউনে তেল মজুদের বৈধতা এবং এসব তেল কীভাবে সেখানে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী সবুর তালুকদারের গোডাউনে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল মজুদ রাখার তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। এর ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে কোস্ট গার্ডের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। তল্লাশির একপর্যায়ে গোডাউনের ভেতর থেকে ৭৮ ব্যারেল অপরিশোধিত সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ব্যারেলে বিপুল পরিমাণ তেল থাকায় সব মিলিয়ে জব্দ করা তেলের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ লিটার।
অভিযানে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমী উপস্থিত ছিলেন। কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি মোংলা থানা পুলিশের সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তারাও অভিযানে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, ব্যবসায়ী সবুর তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে তার গোডাউনে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল মজুদ করে আসছিলেন। পরে ওই তেলের সঙ্গে ভেজাল উপাদান মিশিয়ে তা বাজারে বিক্রি করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ী সবুর তালুকদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযানের পর জব্দ করা তেল আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মোংলা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ী সবুর তালুকদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে হাজির করা হলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ী সবুর তালুকদারের গোডাউন থেকে ৭৮ ব্যারেল তেল জব্দ করেছে। জব্দ করা তেল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলা ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জব্দকৃত তেলের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও র্যাবের অভিযানে ব্যবসায়ী সবুর তালুকদারের গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছিল। একই ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে ফের বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল জব্দ এবং তাকে গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক অভিযানের পরও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় ব্যবসায়ী মহলেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে জব্দ করা তেল চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছিল কি না, এর আমদানি ও মজুদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না, কোথা থেকে এসব তেল সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বাজারজাতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কারসাজি বা ভেজাল মেশানোর ঘটনা ঘটেছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত সয়াবিন তেল বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়া মজুদ ও বাজারজাত করা হলে তা ভোক্তাদের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি বাজার ব্যবস্থাপনায়ও গুরুতর অনিয়মের সৃষ্টি করে। তাই জব্দ করা তেলের উৎস, মালিকানা, আমদানি ও মজুদের বৈধতা এবং বাজারজাতের পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।#