আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছিল। তাদের মধ্যে চারজন সরে দাঁড়ালেন। ফলে বর্তমানে একজন স্বতন্ত্র পরিচালক পর্ষদে রয়েছেন।
ব্যাংকটির পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করা চার স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আবদুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। তাদের মধ্যে সাবেক ব্যাংকার, হিসাববিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকও রয়েছেন।
পদত্যাগ করা এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। এরপর তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ব্যাংকটির পর্ষদে থাকা স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে চারজনকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতেই একজনকে রেখে বাকি চারজনকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে বলে জানা যায়। ওই সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন আর্থিক খাতের আলোচিত ব্যক্তি সাইফুল আলম (এস আলম)-এর ভাই আবদুস সামাদ লাবু এবং কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান।
এস আলম গ্রুপ ও কেডিএস গ্রুপের মালিকপক্ষই চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা।
২০২৪ সালের আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে কয়েকজন স্বতন্ত্র পরিচালকের হাতে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়। তাদের সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ব্যাংকটির নিরীক্ষা করানো হয়। এসব নিরীক্ষায় ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর ব্যাংকটির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত দুটি পক্ষই পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এরপর কেডিএস গ্রুপ ব্যাংকটির পরিচালনায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। একই সময়ে অপর একটি পক্ষ তাদের হাতে থাকা শেয়ারের বিপরীতে পরিচালক পদ দাবি করে।
এর ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ে ব্যাংকটির পুরোনো ১৪ জন শেয়ারধারীকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন পর্ষদ গঠনের পর ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান। আর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান।
সর্বশেষ চার স্বতন্ত্র পরিচালকের পদত্যাগের ফলে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকদের উপস্থিতি আরও কমে গেল।