টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত মঙ্গলবার থেকে আবারও সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন বনজীবীরা। মাছ ও কাঁকড়া ধরতে প্রস্তুতি নিয়ে সুন্দরবনে যাচ্ছেন উপকূলের জেলেরা।
তবে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ ও ইকোট্যুরিজম বন্ধ থাকলেও থামেনি অবৈধ কর্মকাণ্ড। কিছু অসাধু জেলেরা বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করে। বন বিভাগের অভিযানে কিছু জেলে আটক হলেও অধিকাংশ রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব জেলেরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করে।
বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জুন, গত তিন মাসে বন বিভাগের বিভিন্ন অভিযানে ৬৭ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয় মাছ ধরা জাল, মাছ, কাঁকড়া, মধু, হরিণের মাংস, হরিণ ধরা ফাঁদ ও বিষের বোতলসহ বিভিন্ন সামগ্রী। একই সময়ে ১৫৬টি নৌকা ও চারটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার জব্দ করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, বন বিভাগের অভিযানকালে অবৈধভাবে সুন্দরবনে ঢোকা জেলেদের কাছ থেকে ১৬৭ দশমিক ৫ কেজি চিংড়ি মাছ, ১ হাজার কেজি মধু, ১ হাজার ৪৯৫ কেজি কাঁকড়া এবং ২০০ কেজি সাদা মাছ জব্দ করা হয়। একই সময় জব্দ করা হয় ১৪৫ দশমিক ২৫০ কেজি হরিণের মাংস, ৬৬ হাজার ৬৬২ মিটার দোনদণ্ডী, ৭৮৬টি মাছ ধরার আটন, ৩৫টি দা, পাঁচটি কুঠাল, ৫৯টি বিষের বোতল, ১৮৪ দশমিক ৫ ঘনফুট বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি এবং ২০ দশমিক ৩১ ঘনফুট বিভিন্ন ধরনের গোলকাঠ।
এসব ঘটনায় বল বিভাগের পক্ষ থেকে ১৪৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ৩১টি পি ও আর, ১১৭টি ইউডিওআর এবং একটি সিওআর মামলা রয়েছে। এসব মামলায় ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৭ জন আটক এবং ১৩ জন পলাতক রয়েছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মশিউর রহমান জানান, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় বন বিভাগের অভিযানে ১৪৮টি মামলা ও ৬৭ জন আটকের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জাল, ফাঁদ, মাছ, কাঁকড়া, মধু ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়। তিন মাস পর বনে প্রবেশের অনুমতি পেলেও সুন্দরবনে জেলেদেরকে বন বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক চলতে হবে বলে জানান ওই বন কর্মকর্তা।

