অচেনা নম্বর, ই-মেইল বা বার্তা থেকে আসা কোনো লিঙ্কে ক্লিক করার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ সাইবার অপরাধীরা ফিশিং লিঙ্ক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে অসাবধানতাবশত এমন কোনো লিঙ্কে ক্লিক করে ফেললে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না
সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করার পর কোনো ওয়েবসাইটে গিয়ে লগইন, পাসওয়ার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য চাওয়া হলে তা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
এরই মধ্যে কোনো তথ্য দিয়ে ফেললে দ্রুত সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করুন।
দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন
ফিশিং ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড দিয়ে ফেললে যত দ্রুত সম্ভব সেই অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। একই পাসওয়ার্ড অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা হলে সেখানেও পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন।
বিশেষ করে ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্টগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। সম্ভব হলে প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখুন।
ডিভাইস ম্যালওয়্যার দিয়ে পরীক্ষা করুন
সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করার পর ফোন বা কম্পিউটারে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিন। নতুন কোনো অ্যাপ ইনস্টল হয়েছে কি না, অচেনা ফাইল ডাউনলোড হয়েছে কি না কিংবা ব্রাউজারে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে কি না, তা পরীক্ষা করুন।
প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার দিয়ে ডিভাইস পরীক্ষা করুন এবং সন্দেহজনক অ্যাপ বা ফাইল থাকলে সরিয়ে ফেলুন।
ব্যাংক ও কার্ডের লেনদেন নজরে রাখুন
সন্দেহজনক লিঙ্কের মাধ্যমে আর্থিক তথ্য চুরি হতে পারে। তাই কার্ড বা ব্যাংকের তথ্য দিয়ে ফেললে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
এরপর কয়েক দিন নিয়মিত ব্যাংক হিসাব ও কার্ডের লেনদেন পর্যবেক্ষণ করুন। অপরিচিত কোনো লেনদেন দেখতে পেলে দ্রুত ব্যাংককে জানান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।
অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে ব্যবস্থা নিন
সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করার পর অস্বাভাবিক লগইন, পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নোটিফিকেশন কিংবা অন্য কোনো অপরিচিত কার্যকলাপ দেখা গেলে অ্যাকাউন্টটি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সেবার অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সন্দেহজনক লিঙ্কে আবার প্রবেশ করে কোনো তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না।
কীভাবে ফিশিং লিঙ্ক চিনবেন?
ফিশিং লিঙ্ক এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে সেটিকে পরিচিত কোনো ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা জনপ্রিয় অনলাইন সেবার আসল ওয়েবসাইট বলে মনে হতে পারে। অনেক সময় জরুরি বার্তা, পুরস্কার, বিশেষ অফার কিংবা অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে দ্রুত লিঙ্কে ক্লিক করতে প্ররোচিত করা হয়।
তাই অচেনা উৎস থেকে আসা কোনো লিঙ্কে ক্লিক করার আগে প্রেরক ও ওয়েবসাইটের ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করুন। কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে যেতে হলে বার্তায় দেওয়া লিঙ্ক ব্যবহার না করে নিজে ব্রাউজারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ঠিকানা লিখে প্রবেশ করাই নিরাপদ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু কোনো লিঙ্কে ক্লিক করলেই যে ফোন বা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাবে, এমন নয়। তবে লিঙ্কে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া, ফাইল ডাউনলোড করা কিংবা ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টল করলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে।
তাই ভুল করে সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করে ফেললে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

