বটিয়াঘাটা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার তিতুমখালী এলাকায় মাছের ঘের দখলের চেষ্টা, মাছ লুট এবং ঘেরের পাড়ের গাছপালা ও সবজি কেটে ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুশান্ত বিশ্বাস (৫০), রঞ্জন বিশ্বাস (৫০), কৃষ্ণপদ বিশ্বাস (৬৫), নবকৃষ্ণ বিশ্বাস (৫৫) ও অমর বিশ্বাস (২০)-এর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বটিয়াঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সঞ্জিত রায় (৪৫)।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী সঞ্জিত রায় বটিয়াঘাটা উপজেলার পারতিতুখালী মৌজার সিএস খতিয়ান নং-১২, দাগ নং-৬০-এর ৩.১৯ একর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘের পরিচালনা করে ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ওই ঘেরে বর্তমানে বিভিন্ন প্রজাতির আনুমানিক ১০ লাখ টাকা মূল্যের মাছ ছিল। এছাড়া ঘেরের বেড়ির ওপর প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে ওই মাছের ঘেরে প্রবেশ করেন। পরে তারা জাল ফেলে ঘেরের মাছ ধরে নিয়ে যান বলে অভিযোগকারীর দাবি।
একই সময় ঘেরের পাড়ে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও সবজির গাছ কেটে ফেলা হয়। এতে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সঞ্জিত রায় অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘেরে গেলে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করেন। এ সময় লাঠি ও বাঁশ নিয়ে তাকে মারধরের জন্য উদ্যত হওয়া এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তাকে মারধর করে হত্যার পর লাশ মাটিতে পুঁতে রাখার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ঘেরের বেড়ি কেটে মাছ বের করে দেওয়ার পাশাপাশি আগে ধরে রাখা মাছও নিয়ে যান। এতে তার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বটিয়াঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সঞ্জিত রায়। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তার জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে অভিযুক্তদের ঠিকানা বটিয়াঘাটা উপজেলার তিতুমখালী এলাকায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..