খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ
বিল নার্সারিতে তিন মাসের পরিচর্যার পর সিঙ্গার বিলে অবমুক্ত করা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার পোনামাছ। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা এলাকায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় স্থাপিত এই বিল নার্সারিতে মাত্র এক কেজি রেণু মজুদ করে তিন মাস লালন-পালনের মাধ্যমে এসব পোনা উৎপাদন করা হয়। উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর এ উদ্যোগে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও চাষীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
সোমবার(৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার টিপনা এলাকায় স্থাপিত ০.১৩ হেক্টর আয়তনের বিল নার্সারিতে মজুদ করা রেণুগুলো নিয়মিত পরিচর্যা, খাদ্য প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিন মাস ধরে লালন-পালন করা হয়। নির্ধারিত সময় শেষে পোনাগুলো কাঙ্ক্ষিত আকারে বেড়ে উঠলে সেগুলো নার্সারি থেকে সিঙ্গার বিলের উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ সময় রুই, কাতলা, পুঁটি ও গ্রাস কার্পের বিপুলসংখ্যক পোনা অবমুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এসব পোনা বিলে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার মাধ্যমে জলাশয়ের মাছের মজুদ বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে বড় মাছের প্রাপ্যতাও বৃদ্ধি পাবে।
বিল নার্সারি শুধু মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রেই নয়, জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিকল্পিতভাবে রেণু সংরক্ষণ ও লালন-পালনের পর তা উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করার ফলে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাশয়ের ভারসাম্যও বজায় রাখতে সহায়তা করছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জেলে, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে মাছ আহরণের সুযোগ পেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।
বিল নার্সিয়ারিটি পরিচালনা ও পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় মৎস্যচাষী মো. ফজলুর রহমান শেখ। তাঁর তত্ত্বাবধানে মজুদ করা রেণুগুলো নিয়মিত পরিচর্যার মধ্য দিয়ে তিন মাসে পোনায় পরিণত করা হয় এবং পরবর্তীতে সেসব পোনা সিঙ্গার বিলে অবমুক্ত করা হয়।
পোনামাছ অবমুক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান, ক্ষেত্র সহকারী পলাশ কুমার সেন, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য শেখ মহসিন হোসেন, জিএম নূর ইসলাম, জিয়াউর রহমান গাজী, শাহাজান ফকির এবং সফলভোগী মৎস্যচাষী মো. ফজলুর রহমান শেখসহ স্থানীয় আরও অনেকে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছে, উন্মুক্ত জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্ত করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে সিঙ্গার বিলে মাছের উৎপাদন ধীরে ধীরে আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বড় মাছের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় জেলে, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের আর্থিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিল নার্সারি কার্যক্রমের পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ করা গেলে সিঙ্গার বিল ভবিষ্যতে মাছের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে নতুন পরিচিতি পাবে। এতে এলাকার মানুষের মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকায়ও আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।
ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “বিল নার্সারির মাধ্যমে রেণু মজুদ করে তিন মাস লালন-পালনের পর পোনা উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সিঙ্গার বিলে মাছের মজুদ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।

