আজকের তারিখ : | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রূপসায় বিদ্যালয়ের সামনে স্পিড ব্রেকারের দাবিতে মানববন্ধন ২০২৭ সালের ডেঙ্গু মৌসুমের আগেই টিকা আসার সম্ভাবনা ভারতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চার স্বতন্ত্র পরিচালকের পদত্যাগ রূপসায় চার কিঃমিঃ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ফেটে চৌচির ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় স্মার্টফোন দেওয়ার উদ্যোগ সিলেটে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বর্জনের কারণ জানাল মহানগর বিএনপি ডুমুরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ডুমুরিয়ায় উপজেলা পর্যায়ে দলিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের মতবিনিময় সভা, ৭ দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির ঘোষণা চট্টগ্রামের বুকে মানবতার নতুন আলো যাত্রা সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নে দুই দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড সাতকানিয়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ৩ শিশুর চন্দনাইশ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩ আসামী গ্রেপ্তার
ad728

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

প্রতিবেদকের তথ্য : Dainik Somoy Sangbad
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 16, 2026
  • সংবাদটি দেখেছেন: 28
ছবির ক্যাপশন : সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

নিয়োগ ও পদায়ন থেকে শুরু করে বদলি-পদোন্নতি, টেন্ডার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করে ভিলা কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগে উল্লেখ করা বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেনের অঙ্ক হিসাব করলে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রের দাবি, অভিযোগের সবচেয়ে বড় অংশ বিদেশে অর্থপাচারসংক্রান্ত। দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুস লেনদেন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ও বদলি, কেনাকাটা এবং কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, আগের অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগগুলোও যুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে।

ডিসি পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

দুদকের কাছে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া দেশের ৩৬টি জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। সেই হিসাবে ৩৬টি পদে সম্ভাব্য লেনদেনের অঙ্ক ৭২ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিষয়টি অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করবে দুদক।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টিও অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে। ওই অর্থের বরাদ্দ এবং উত্তোলন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ওয়াসার এমডি নিয়োগে ১০ কোটি টাকার অভিযোগ

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

এছাড়া এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগ দিতে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দিতে ৬৫ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। চার দেশে কথিত অর্থপাচারের মোট পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পাচার করা অর্থের একটি অংশ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগও রয়েছে।

দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের দুই বোনের স্বামী এবং এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করা হয়েছে।

বাবা, এপিএস ও পিওর বিরুদ্ধেও অভিযোগ

আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন এবং এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা ঠিকাদারদের কথিত সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে ভূমিকা রেখেছেন।

তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুস লেনদেনে তদবির এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া হেলিকপ্টারে কম্বল বিতরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় এবং বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত এবং বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহারের বিষয়েও অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় নিয়েছে দুদক।

আগের অনুসন্ধানে যেসব অভিযোগ ছিল

এর আগে আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

সেই অনুসন্ধানে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের টেন্ডার, কেনাকাটা এবং অন্যান্য কার্যক্রমেও একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগের পরিধি বাড়ায় বড় পরিসরে অনুসন্ধান

নতুন করে যুক্ত হওয়া অভিযোগগুলোতে একাধিক মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, নিয়োগ-পদায়ন এবং বিদেশে অর্থপাচারের বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ এবং দেশের বিভিন্ন খাতে বিপুল অর্থ লেনদেনের তথ্য থাকায় অনুসন্ধানটি বড় পরিসরে নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের কোনটি সত্য এবং কোনটির পক্ষে প্রমাণ রয়েছে, তা অনুসন্ধান শেষে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড
ad728
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728