খান আঃ জব্বার শিবলীঃ রূপসার চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ হওয়ার আগেই ব্যর্থতার মুখে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণের প্রতিটি ধাপে ব্যাপক অনিয়ম। জনমনে প্রশ্ন জেগেছে সঠিক তদারকির অভাব নাকি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়ীত্ব প্রাপ্তদের সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যোগসাজশে ইচ্ছেমতো কাজ করেছে। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে পিচ, বিটুমিন কম দিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। কার্পেটিংয়ের পুর্বে নিম্নমানের খোয়ার ব্যবহার ও নিয়ম অনুযায়ী রোলার চালানো হয়নি। যে কারণে কাজ শেষ না হতেই সড়কে বড় বড় গর্ত ও ফাটল ধরেছে। উপজেলার অন্য কিছু সড়ক ও আছে যে গুলি ৫/১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অথচ টেকসই মেয়াদ ১৫দিন থেকে ১মাস। এখন প্রশ্ন হচ্ছে রাস্তার বেহালদশার জন্য দায়ী কে। এলজিইডি প্রকৌশলীদের অযোগ্যতা নাকি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলীরা যোগসাজশে কাজেরমান খারাপ করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ। নাকি অন্য কোন অদৃশ্য শক্তির জাদুর কাটিতে জনগণের কোটি কোটি টাকা উদাও হযে যাচ্ছে। ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার নির্মাণাধীন সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ না হতেই রাস্তা ফেটে চৌচির, তৈরী হয়েছে বড় বড় খানা খুন্দুপে, ঠিকমত রোলার না করা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার কারণে রাস্তার কোথাও কোথাও ডেবে গেছে, বিভিন্ন স্থানে পিচ হাতের ছোঁয়াতেই উঠে যাচ্ছে। সড়কের কার্পেটিংয়ে বিটুমিনের উপস্থিতি যতসামান্য।
সরেজমিন দেখা গেছে, সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের পিচের স্তর অত্যন্ত দুর্বল। অনেক জায়গায় রোলার ও কম্প্যাকশন সঠিকভাবে না হওয়ায় পিচ ভালোভাবে বসেনি। নির্ধারিত পুরুত্ব বজায় রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শুরু থেকেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
উপজেলা এলজিইডি দপ্তর এবং উন্নয়ন কাজের নকশা সুত্রে জানাযায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ১শত ছাপ্পান্ন টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন প্রকল্পের নাম ঘূর্ণিঝড় আমপান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পূনর্বাসন প্রকল্প (CAFDRIRp)। প্যাকেজ নং- e- tender/CAFDRIRP/khulna/uzr/w-45। টেন্ডার আইডি নং ১১০৭৬৬৮।
উন্নয়ন কাজের নাম (আলাইপুর হাট খুলনা টু তেরখাদা সড়ক অর্থাৎ আলাইপুর টু পালের হাট বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়ক। সড়কটি ২৫/২৬ অর্থ বছরের
০২/০৪/২০২৫ তারিখে কাজ শুরু করে ২২/০৪/ ২০২৬ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় শেষের পরে কাজে হাত দিয়েছে। অপরদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম সৈকত এন্টারপ্রাইজ, প্রোফাইটার মোছাঃ সাহিদা বেগম টেন্ডার লটারিতে কাজের প্যাকেজ পাইলেও কাজ করছে অন্য কেউ। কাজের প্রাক্কলিত মুল্য ৩,৬৬,৪০,১,৫৬.০০ টাকা থাকলেও চুক্তি মুল্য আছে ৩,২৯,৭৬,১৪০.৪০টাকা। যা নিম্নোক্ত বিবারণ সহ উপস্থাপিত।
Road safety (রোডসেপ্টি)
বা সড়কের নিরাপত্তা বাবদ ব্যয় (২০৬৬৭৩৫)টাকা
Repair railing and rail post of box culvert"
"বক্স কালভার্টের রেলিং (সুরক্ষা বেষ্টনী) এবং রেল পোস্ট (খুঁটি) মেরামত বাবদ ব্যয় (৯৪৬০৫) টাকা
Earth work (আর্থওয়ার্ক) মাটিকাটা বা মাটি সংক্রান্ত কাজের জন্য ব্যয় (৩০৩২৯৯) টাকা,
Drainage cutvent
পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা, ড্রেন বা পরিখা খনন বাবদ ব্যয় (১৫৬৫০০)টাকা
Pavement work (পেভমেন্ট ওয়ার্ক) মুল রাস্তা নির্মান বাবদ ব্যয় (৩২৫৪৩৩২০) টাকা
Protective work- প্রতিরক্ষামূলক কাজ" বা "সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার জন্য ব্যয় (১৪৭৫৬৯৫)টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরু থেকেই এক নম্বর ইটের পরিবর্তে (নিম্নমানের) তিন নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক স্থানে সঠিকভাবে খোয়া না দিয়ে শুধু বালু ভরাট করে তার ওপর দায়সারা খোয়া ছিটিয়ে লোক দেখানো কাজ করা হয়েছে। স্থানীয়রা এসব অনিয়মের অভিযোগ তুললেও গুরুত্ব দেয়নি কর্তৃপক্ষ। বরং দ্রুততার সাথে ওই অবস্থাতেই রোলার চালিয়ে কার্পেটিং শেষ করেছে। এ ব্যাপারে নির্মানাধীন সড়কের বর্তমান ঠিকাদার মোঃ শাহিনুর রহমান জানান অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কার্পেটিংয়ে ফাটল ধরেছে বৃষ্টি কমলেই রিপিয়ারিং করে দেব তাছাড়া বিটুইনের মুল্য আকাশ চুম্বি বৃদ্ধি পেয়েছে যা ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮হাজার ৫শত টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কাজের মান ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নাজমুল হুদা বলেছেন আমি একাধিকবার সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করেছি এবং প্রকাশ্যেই যথাযথভাবে কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছি। মানসম্মত কাজ না হলে আমি সেটি গ্রহণ করবো না বলে ও জানিয়েছি। আমি নিজে কাজ দেখেছি এবং ঠিকাদারকে স্পষ্ট করে জানিয়েছি; মান খারাপ হলে বিল দেয়া হবে না। তবু কেন চলমান কাজেই পিচ উঠে যাচ্ছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কথা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পক্ষান্তরে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ঘনিষ্ঠতার সুযোগেই অনিয়ম চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগী মহলের দাবি, অবিলম্বে উচ্চ পদস্থ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। তা না হলে এই প্রকল্পটি উন্নয়নের বদলে দুর্নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..