ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকা একটি লিফটে আগুন লেগে আটতলা পর্যন্ত লিফটের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুনের আতঙ্কে হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। দ্রুত বের হতে গিয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদর থেকে তিনটি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নতুন ভবনের আটতলায় থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসেন। নিরাপত্তাকর্মীরা শিশু ও নারীসহ রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন।
একই সময়ে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরাও দ্রুত ভবন থেকে বের হয়ে হাসপাতালের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। হাসপাতাল চত্বরে এ সময় বিপুলসংখ্যক উৎসুক মানুষ জড়ো হন। খবর পেয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, হাসপাতালের উপপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে লিফটের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে লিফটের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে।
তিনি জানান, নগরীতে যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো হাসপাতালে পৌঁছাতে কিছুটা সময় নেয়। তবে খবর পাওয়ার পরপরই ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
হাসপাতালের স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, নতুন ভবনের ওই লিফটটি দীর্ঘদিন ধরেই বিকল অবস্থায় ছিল। রোগীর স্বজনদের ফেলে যাওয়া খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা জমে লিফটের আশপাশে কিছু জায়গায় স্তূপ তৈরি হয়েছিল। আগুন লিফটের দ্বিতীয় তলা থেকে দ্রুত ছড়িয়ে আটতলার লিফটের ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
তিনি বলেন, আগুনের সময় রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে থাকেন। এতে অনেকে আহত হয়ে থাকতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
আগুনের কারণে নতুন ভবনের সচল অন্যান্য লিফটও প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে স্বজনদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী রোগীর স্বজন, হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা জানান, বিকেল পৌনে ৬টার দিকে নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিকল লিফট থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুনের শিখা দেখা দেয় এবং তা দ্রুত ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নিচে নেমে আসেন। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশ ও হাসপাতালের কর্মীরা রোগীদের সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন।
তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ সিগারেটের আগুন, আবার কেউ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, আগুন যদি লিফটের পরিবর্তে কোনো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ত, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগরীর যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হলেও আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড