আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৩নং পদুয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আরমানুল ইসলাম নবাব। "একটি স্বপ্নের পদুয়া ইউনিয়ন" গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি গত কয়েকদিন ধরে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম ও বাজারে সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করছেন। তার সৎ, শিক্ষিত ও জনবান্ধব নেতৃত্বের কথা শুনে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। চট্টগ্রাম-ক্সবাজার মহাসড়ক কেন্দ্রিক পদুয়া ইউনিয়ন দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। কিন্তু সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার কারণে এই ইউনিয়নের মানুষ নানা সমস্যায় জর্জরিত। পদুয়া বাজারের তীব্র যানজট, হাজার নদীর অব্যাহত ভাঙন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা এবং বেকারত্ব এখন এখানকার মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগ। এই সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছেন আরমানুল ইসলাম নবাব। পদুয়া বাজারের যানজট নিরসনকে তিনি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই বাজার দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল ও যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানোর কারণে এখানে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর ফলে অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়। নির্বাচিত হলে তিনি প্রথমেই বাজারকে ফুটপাত দখলমুক্ত করবেন। সিএনজি, রিকশা ও পণ্যবাহী গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। পুরো বাজার এলাকাকে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং নারী ও শিশুরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে। একই সাথে বাজারের ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করে পদুয়া বাজারকে একটি পরিচ্ছন্ন ও মডেল বাজারে রূপান্তর করা হবে। হাজার নদীর ভাঙন পদুয়া ইউনিয়নের আরেকটি বড় সমস্যা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনে অনেক ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে কৃষকরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করে নদীর তীরে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে তিনি প্রতিটি এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন ও আধুনিক সেচের ব্যবস্থা করবেন। কৃষকরা যেন সরকারি বীজ ও সার ন্যায্য মূল্যে পান, সেজন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে তিনি জাতি গঠনের মূল ভিত্তি মনে করেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে সক্রিয় করা হবে। সেখানে যেন নিয়মিত চিকিৎসক থাকে এবং গরিব রোগীরা বিনামূল্যে ঔষধ পায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সকল কাঁচা রাস্তা পর্যায়ক্রমে পাকাকরণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আনার চেষ্টা করা হবে। আজকের তরুণরাই আগামীর কর্ণধার। এই কথা বিবেচনা করে আরমানুল ইসলাম নবাব পদুয়াতে একটি আধুনিক কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই সেন্টারে তরুণদেরকে ফ্রি-তে কম্পিউটার, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফ্রিল্যান্সিং সহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যাতে তারা ঘরে বসেই দেশে-বিদেশে আয় করতে পারে। একই সাথে যুবসমাজকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ সংস্কার ও নতুন খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পদুয়া ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রবাসে অবস্থান করছেন। তাদের পরিবার যেন ইউনিয়ন পরিষদে এসে কোনো হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য একটি "প্রবাসী কল্যাণ সেল" গঠন করা হবে। এই সেলের মাধ্যমে প্রবাসীদের পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সেবা ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে। আরমানুল ইসলাম নবাবের সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হলো একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা। তিনি বলেন, আমি চাই মানুষ সেবা নিতে এসে যেন কোনো দালালের কাছে না যায়। জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ সহ সকল নাগরিক সেবা মানুষ যেন সরকারি নির্ধারিত ফি-তে এবং অল্প সময়ের মধ্যে পায়। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদের সন্তান। আপনাদের ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে একটি আধুনিক, যানজটমুক্ত, মাদকমুক্ত ও সমৃদ্ধ পদুয়া ইউনিয়ন গড়তে চাই। আপনাদের একটি ভোটই পারে পদুয়ার ভাগ্য বদলে দিতে। তাই আগামী নির্বাচনে আপনাদের মূল্যবান সমর্থন ও দোয়া কামনা করছি।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড