লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি |
দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে গেছে। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চরম উদ্বেগ ও ধুঁকতে থাকা অবস্থার পর অবশেষে সার্ভিস বন্ধ করেছে। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ইস্টার্নসহ কর্ণফুলী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে একটি চুক্তির আওতায় এক বছরের জন্য ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টারটি চালু করা হয়। তবে ধীরে ধীরে জনবল ও অর্থ সংকটে পড়ে। গত মে মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১১ জন ও ৭৭ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মোট ১১২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। যার মধ্যে সেন্টারে চিকিৎসাধীন থেকে ৪ জন কর্তব্য চিকিৎসকের অভাবে। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকের থেকে পাঠানো হয় রোগী, অন্যদিকে অপারেশন থিয়েটার মধ্যেও পড়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০২৪ সালে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারের নির্ধারিত সময় ২০২২ সালে তিনবার জমা হওয়ায় আরও ৩ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলেও অনুমোদন না পাওয়ায় চিকিৎসা কর্মী, ভবন, জুনিয়র কনসালটেন্ট, সার্জন সহ ৫ টেকনিশিয়ানসহ মোট ২৭টি পদ শূন্য হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন এই মহাসড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার চালু থাকায় দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো। এখন সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আহতদের ৪০-৫০ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম মেডিকেল বা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিতে হচ্ছে, পথেই অনেকের মৃত্যু হচ্ছে।
এ বিষয়ে দ্রুত ট্রমা সেন্টারটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..