সোনারগাঁয়ে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু
প্রতিবেদকের তথ্য : Dainik Somoy Sangbad
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Sep 21, 2026
-
সংবাদটি দেখেছেন: 70
ছবির ক্যাপশন :
সোনারগাঁ(নারায়ণগঞ্জ) হইতে সাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে তিন স্কুল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে দুই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপর শিক্ষার্থীর আবিদ হোসেনের মরদেহ সোয়া ৫টায় উদ্ধার করা হয়। তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ মেঘনা নদীর ভাটিবন্দর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে মেঘনা নদীর ভাটিবন্দর এলাকায়ই গোসলে নেমে তারা নিখোঁজ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন। নিহতরা হলো, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস এলাকার মো.ফারুক আহমেদের দুই জমজ ছেলে আরিফিন আহমেদ (১৫) ও আশিকিন আহমেদ (১৫) ও একই এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে আবিদ হোসেন (১৪)।এদিকে শিক্ষার্থীরা নিখোঁজের পর থেকে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় উৎসুক জনতা ভীড় করেছেন। পাশাপাশি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ওই এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তিন শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোগরাপাড়া এইচ.জি.জি.এস.স্মৃতি সরকারি বিদ্যায়তনের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জমজ দুই ভাই আশিকিন আহমেদ ও আরিফিন আহমেদ। অপর শিক্ষার্থী আবিদ হোসেন একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। গতকাল রোববার সকালে স্কুল যাওয়ার কথা বলে তারা বাসা থেকে বের হয়। স্কুল না গিয়ে চার বন্ধু একত্রিত হয়ে মেঘনা নদীর ভাটিবন্দর এলাকায় গোসলের উদ্দেশ্যে নদীতে নামে। নদীতে নামার কিছুক্ষণের মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আদিয়ান ফারিজ পানি থেকে উঠলেও বাকি তিনজন তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পরও তাদের সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ ঘন্টা পর দুই শিক্ষার্থী আশিকিন আহমেদ ও আরিফিন আহমেদের লাশ উদ্ধার করে। পরবর্র্তীতে সোয়া ৫টার দিকে আবিদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত দুই শিক্ষার্থী আশিকিন আহমেদ ও আরিফিন আহমেদের বাবা ফারুক আহমেদ বলেন, সকালে তারা স্কুলের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে জানতে পারি তারা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ রয়েছে। আমার এখন বুক খালি হয়ে গেলো। কি নিয়ে এখন বাচঁবো। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের জন্য তিনি দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ,মেঘনা নদী ভাটিবন্দর এলাকায় কয়েকটি বাল্কহেড নোঙর করা ছিল। নোঙর করা বাল্কহেডের পাশে শিক্ষার্থীরা গোসলে নামে। এসময় একটি বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করে চলে যাওয়ার সময় ধাক্কায় শিক্ষার্থীরা তলিয়ে যায়। ধারনা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের পাখার সঙ্গে আঘাত পেয়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়।নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। নৌ পুলিশ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মাহবুব আলম জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।শিক্ষার্থীদের মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের পর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। সোনারগাঁ থানার ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারের জন্য নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে সহযোগিতা করেছেন। নিখোঁজ তিনজনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। সকল প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে চাইলে মামলা গ্রহন করা হবে।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
কমেন্ট বক্স
নিউজটি শেয়ার করুন..
এ জাতীয় আরো খবর..